আগস্টে আমদানি হ্রাস

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ২৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। এ সংকোচনের কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবের কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। কারণ ব্যাপক শুল্কের ভারে অনেক দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি কমে গেছে। খবর এপি।

রেকর্ড শাটডাউনের কারণে বেশ দেরিতে আগস্টের আমদানি-রফতানি প্রতিবেদন প্রকাশ করল মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। সেখানে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ের আমদানি ও রফতানি বাবদ মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। আগস্টে তা ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৬০ কোটি ডলারে।

মার্কিন কোম্পানিগুলোর শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে বিদেশী পণ্য মজুদ করেছিল। এ কারণে জুলাইয়ে আমদানি ও রফতানি খরচের মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। অন্যদিকে আগস্টে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় পণ্য ও সেবার আমদানি ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৪০ কোটি ডলারে। একই সময় রফতানি দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৮০ কোটি ডলার।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্য অংশীদাররা বেশি সুযোগ পাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির ধারা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কয়েক দশক ধরে চলে আসা মুক্ত বাণিজ্যনীতির বিপরীতে অবস্থান নেন তিনি। এতে অধিকাংশ দেশের আমদানির ওপর দুই অংকের শুল্ক বসে। একই সঙ্গে ইস্পাত, তামা ও গাড়ির মতো নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করেন।

অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৪ সালের তুলনায় বেশি। গত বছরের জানুয়ারি-আগস্টে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৫৭ হাজার ১১০ কোটি ডলার। চলতি বছর একই সময় ঘাটতি ২৫ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৭১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ও বাণিজ্য ঘাটতির হ্রাস যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভালো। কারণ জিডিপি হিসাবের মধ্যে বিদেশী পণ্য অন্তর্ভুক্ত নয়। কমেরিকা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিল অ্যাডামস বলেন, ‘আগস্টের বাণিজ্য ঘাটতি ছোট হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমার অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়ের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল দেশীয় পণ্য ও সেবা।’

তিনি জানান, শাটডাউনের কারণে প্রতিবেদনটি দেরিতে প্রকাশ হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে, তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি শক্তিশালী গতিতে সম্প্রসারণ হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী নতুন শুল্কনীতি মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেবে এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনবে। এদিকে পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করবে রফতানিকারকরা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শুল্ক বাবদ খরচের বড় একটি অংশ দিচ্ছে আমদানিকারকরা, যার প্রভাবে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কই যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদে থাকার অন্যতম কারণ।

আরও